![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
তবে একের পর এক অডিও ভাইরালের মাঝেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে নিয়োগ সংক্রান্ত বোর্ড চলমান রয়েছে। সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সোমবার (১২ জুন) পুনরায় নিয়োগ বোর্ড চালু হয়। সোমবার ও মঙ্গলবার চারটি প্রশাসনিক পদের নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়। ১২ জুন অনুষ্ঠিত উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে লিখিত পরীক্ষায় তিনটি পদের বিপরীতে ১৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও এক জন সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) পদের বিপরীতে ৩৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এদিকে মঙ্গলবার (১৩ জুন) প্লাম্বার পদের ভাইভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিন টি পদের বিপরীতে সাত জন চাকরি প্রত্যাশী অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও এক জন ইলেকট্রিশিয়ান পদের বিপরীতে অংশগ্রহণ করেন দশ জন চাকরি প্রত্যাশী।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ১৩ জুন ‘দরবেশ সালাম’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে ২ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের একটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়। অডিওতে ড্রাইভার নিয়োগের বিষয়ে নজরুল নামের এক ব্যক্তির সাথে কথা বলতে শোনা যায়। এর আগে ১১ জুন একই আইডি থেকে ফাঁস হওয়া অডিওতে ভিসিকে জুবায়ের নামের একজন চাকরিপ্রার্থীর বিষয়ে কারো সাথে কথা বলতে শোনা যায়। সেখানে ওই চাকরিপ্রার্থীকে আবেদন করার পর ভিসির সাথে দেখা করার কথাও উঠে আসে।
এর আগে ১০ জুন ‘রক সালাম’ নামের আইডি থেকে ফাঁস হওয়া দুইটি অডিওতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়োগের বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায়। এ ছাড়া ৯ জুন একই আইডি থেকে ফাঁস হওয়া অডিওতে ফাইন আর্টস ও মার্কেটিং বিভাগের নিয়োগের বিষয়ে কথাবার্তা শোনা যায়। অডিওতে অন্য প্রান্তের ব্যক্তিকে ভিসি বলেন, 'সোজা কথা, আমি আপনার ক্লিয়ারেন্স ছাড়া কাউকে নিয়োগ দেব না।'
এছাড়াও এর আগে ‘ফারাহ জেবিন, আল বিদা, মিসেস সালাম’ আইডি থেকে বিভিন্ন সময়ে দশটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম অডিও ফাঁস হয়। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি ইবি থানায় জিডি করা হয়। এদিকে গত ২০ ফেব্রুয়ারি গোপন ডিভাইসের খোঁজে ভিসির কার্যালয়ে ও বাসভবনে তল্লাশি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়াও গত ১৯ ও ২২ ফেব্রুয়রি পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মোট পাঁচটি নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ড স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ভিসির একান্ত সচিব আইয়ূব আলীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এসব ঘটনায় গত ১২ মার্চ অডিও ফাঁসের নেপথ্যের মানুষদের চিহ্নিত করতে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলামকে আহবায়ক করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে যথাশীঘ্র প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। তবে এখনও কমিটি তাদের কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি।
এদিকে, অডিও ভাইরালের ফলে দীর্ঘদিন নিয়োগ বোর্ড স্থগিত থাকার পর সোমবার (১২ জুন) আবারও নিয়োগ বোর্ড চালু হয়। অডিও ভাইরালের কোনো সুরাহা না হয়েই নিয়োগ বোর্ড চালু হওয়ায় বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ক্যাম্পাস সূত্রে, সোমবার (১২ জুন) উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন, পরীক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভিসি অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম, প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভুঁইয়া ও প্রধান প্রকৌশলী মুন্সী সহিদ উদ্দীন মো. তারেক। এ ছাড়ও বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী এ বি এম মামুনুর রশীদ।
এদিকে, মঙ্গলবার (১৩ জুন) প্লাম্বার পদের ভাইভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিন টি পদের বিপরীতে সাত জন চাকরি প্রত্যাশী অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়াও একজন ইলেকট্রিশিয়ান পদের বিপরীতে অংশগ্রহণ করেন দশ জন চাকরি প্রত্যাশী। ভাইভায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুহুল কে এম সালেহ।
এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. তপন কুমার জোদ্দার বলেন, অডিও ভাইরালের সুরাহা না হওয়ার পরও যদি নিয়োগ বোর্ড হয় তাহলে তো এটা আরও সন্দেহের জন্ম দেয়। আমরা শিক্ষক হিসেবে তো কিছু করতে পারি না। সর্বোচ্চ তাকে বা সরকারকে অবহিত করতে পারি।

0 Comments